জনগণের ভীতি দূর করা ও মনোবল বাড়ানো সময়ের দাবি

0
24
দিনাজপুরে ভ্যানচালকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার
Search and buy domains from Namecheap


করোনা রোগের প্রতিষেধক যেমন নেই, তেমনি এর সুনির্দিষ্ট ওষুধও নেই। চিকিৎসকরা লক্ষণের ভিত্তিতে এর চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। জ্বরের জন্য সাধারণ প্যারাসিটামল, সর্দি-কাশির জন্য হিস্টাসিন-জাতীয় ওষুধ, নিউমোনিয়া দেখা দিলে তার ইনজেকশন, জ্বর দীর্ঘায়িত হলে ডিক্সসিলিন-জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ইত্যাদির ওপরই নির্ভর করছে। এ সময়ে পালস অক্সিমিটারও চিকিৎসার অত্যন্ত জরুরি অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। এতে অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯০-এর নিচে নেমে গেলে অক্সিজেন সহায়তা দিতে হবে। এ ছাড়া আরও কিছু ওষুধের নাম বাজারে চালু রয়েছে। এদিকে করোনা পরীক্ষার কেন্দ্র প্রত্যাশিত মানুষের তুলনায় নগণ্য হওয়ায় সেখানেও সেবা পেতে অসুবিধা হচ্ছে। তা ছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য আরও ভোগান্তির কারণ হলো পরীক্ষার ফল পেতে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে ভুক্তভোগী মানুষ পরিচিত ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে বা অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ নিয়ে উপরোল্লিখিত ওষুধগুলো সেবন করতে শুরু করছে। এভাবে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর করোনা চিকিৎসা মূলত ব্যক্তিগত উদ্যোগে সরকারি সব ব্যবস্থার আওতার বাইরে থেকে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে করোনাসংক্রান্ত সরকারি যে হিসাব প্রতিদিন গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হচ্ছে তা যে বাস্তবের প্রতিফলন নয়, এটা সাধারণ মানুষই ভালোভাবে জানে।

এ অবস্থায় যখন রোগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সর্বত্র রোগ ছড়িয়ে পড়ছে, তখন প্রত্যেকের পরিচিত মানুষজন আক্রান্ত হচ্ছে, অনেকেই মারাও যাচ্ছে। ফলে জনগণের মধ্যে করোনা নিয়ে একটা ব্যাপক ভীতির সঞ্চার করেছে। অথচ চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা থেকে আরোগ্য লাভের প্রধান হাতিয়ার হলো আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার আশপাশে মানুষজনের মনোবল। কিন্তু বাস্তবে অব্যবস্থাপনা ও অপ্রতুলতা মানুষের মনোবলের ওপর আঘাত করছে। এদিকে কর্তৃপক্ষের বিশেষভাবে নজর দেওয়া দরকার। করোনা চিকিৎসায় করণীয় নিয়ে জনগণকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রাঞ্জলভাবে নির্দেশনা দেওয়া জরুরি। সরকরি ভাষ্যে একাধিক ব্যক্তির বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে মানুষের মনে বিভ্রান্তি আরও বাড়বে। এ অবস্থায় দ্রুত জনগণকে আশ্বস্ত করা এবং তাদের মনোবল চাঙ্গা করার জন্য যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

যে ধরনের ঘরোয়া প্রতিষেধকের কথা অভিজ্ঞ দেশ থেকে প্রচারিত হয়েছে, সেগুলো আমাদের অনেক জনগণও জেনেছে। বিশেষ ধরনের চা, ঈষৎ উষ্ণ লবণজলের গরগরা, গরম জলের ভাব নেওয়াসহ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া ও প্রতিদিন নিয়ম করে শ্বাস ও শরীরের ব্যায়াম এ রোগ প্রতিরোধে বিশেষ উপকারী বলে প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের দেশে মুখে মুখে এগুলোর প্রচার আছে। গণমাধ্যমেও কিছু কিছু এসেছে, কিন্তু এখন প্রয়োজন সরকারিভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে এগুলোর ভিত্তিতে জনগণকে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ও নির্দেশনা দেওয়া। আমরা সরকারের এই উদ্যোগের দিকেই তাকিয়ে থাকলাম।



Source link

Shared Hosting with Namecheap

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here