পটুয়াখালীর জৈনকাঠী এলাকা থেকে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার।

0
27

কিশোর মালী (পটুয়াখালী প্রতিনিধি) পটুয়াখালী জেলার জৈনকাঠী ইউনিয়নে শশুর বাড়ি থেকে মিতু আক্তার নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।ঘটনাটি ঘটেছে ২২ জুন জৈনকাঠী ইউনিয়নের চাড়াবুনিয়া গ্রামের মারোয়ান বাড়িতে।

মৃত গৃহবধূ মিতু হচ্ছেন জৈনকাঠী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ কবির মৃধার বড় মেয়ে।

গত দেড় বছর আগে কবির মৃধার বড় মেয়ে মিতু আক্তারে সাথে পাশের গ্রামের আঃ রশিদ মারোয়ান এর ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলামের সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়।
গত আড়াই মাস আগে তাদের একটি সন্তান জন্ম গ্রহণ করে।

পারিবারিক সুত্রে জানাগেছে যে , যৌতুকের দাবির টাকা পুরন না করতে পারায় মৃত মিতুর স্বামীঃ রফিকুল ইসলাম মারোয়ান, শশুর, আঃ রশিদ মারোয়ান, শাশুড়ী নুর সায়েদা, ননদ রাহিমা, ভাসুর শফিকুল ইসলাম মারোয়ান, জা-ইয়ানুর বেগম, তারা সবাই মিলে তাকে হত্যা করেছে।

মৃত মিতুর মা রেহানা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই বার বার যৌতুকের টাকার দাবি নিয়ে শশুর বাড়ির লোকজন মিতুর উপরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। ঝগড়া বিবাদের কারণে গত চার মাস যাবত মিতু তার বাবার বাড়িতে থাকতো।

সন্তানের বয়স প্রায় আড়াই মাস এর মধ্যে শশুর বাড়ির লোকজন কোনো খোঁজ খবর নেয়নি।গত শুক্রবার বিকেলে তার ভাসুর শফিকুল ইসলাম ও তার জা-ইয়ানুর বেগম এসে মিতুকে নিয়ে যায়।
তারপর সবাই মিলে মিতুকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করে।

তিনি আরও বলেন, আমি একজন সন্তান হারা মা হয়ে দেশের মা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার কাছে অপরাধীদের উপযুক্ত বিচার ফাঁসির দাবি করে।

মৃত মিতু আক্তারের পিতাঃ কবির মৃধা সন্তান হারানোর শোক নিয়ে বলেন, আমার মত অন্য কোন পিতা যেন যৌতুকের জন্য তার সন্তানকে না হারায় সেজন্য অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাসি দাবি করি।

এবিষয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত মিতুর শাশুড়ী সায়েদা বেগম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রকৃত ঘটনা লুকানোর চেষ্টা করেন এবং তাদের পরিবারে কারো সাথে গৃহবধূ মিতুর সাথে কখনও কোনদিন ঝামেলা হয়নি সে কথা বলেন।এটা স্বাভাবিক মৃত্যু বলে তিনি দাবি করেন।

কিন্তুু তার ছেলে রফিকুল ইসলাম কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলতে পারেন না বলে জানায়।

তিনি বলেন,
গত রাতে ১০ টার সময় আমরা ঘুমিয়ে পড়ার আগেও ছেলে রফিকুল বাসায় ছিলো সকালে উঠে আর তাকে দেখতে পাওয়া যায়নি,এখন পর্যন্ত সে কোথায় আছে আমরা জানিনা এবং বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম ১০ দিনের ছুটিতে বাড়ি আসে সেও আজ খুব সকালে তার কর্মস্থলে চলে যায়।

এটা রহস্য জনক মৃত্যু এবং হত্যা বলেন স্থানীয়, রাহিমা বেগম পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (CSB) এর কর্মী, তিনি আরোও বলেন, মিতুর গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আমরা গিয়ে লাশ বিবস্ত্র অবস্থায় পেয়েছি।

দেখে মনে হচ্ছে তাকে মেরে ফেলার আগে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে।

এর সুষ্ঠু তদন্ত ও মেডিকেল রিপোর্ট করে সত্যিটা বের করে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার ফাসির দাবি জানান।স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকেই বলেন, একটা নীরহ মেয়ে ছিলো মিতু এখন তার মৃত্যুতে আড়াই মাস বয়সের শিশুটির কি হবে।

এবিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আখতার মোর্শেদ বলেন, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে মেডিকেল রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সঠিক তথ্য বলা যাবে না।পোস্টমর্টেম করে লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান।

ঘটনাস্থলে থানার সেকেন্ড অফিসার এস,আই হাফিন বলেন আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি সকল আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

পুর্নাঙ্গ তদন্ত না হলে আসল ঘটনা কি বলা যাচ্ছে না।তবে আমাদের তদন্ত কাজ অব্যাহত থাকবে।

হত্যা নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসলে সঠিক বলা যাবে।

Shared Hosting with Namecheap

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here