Homeখেলাচট্টগ্রামে করোনাপরবর্তী জটিলতায় বাড়ছে মৃত্যু

চট্টগ্রামে করোনাপরবর্তী জটিলতায় বাড়ছে মৃত্যু


করোনা পরবর্তী জটিলতা ও প্যানক্রিয়াটাইটিসের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের (চমেক) কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সন্দীপন দাশ (৫৩)। একইভাবে মারা যান চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট আসোসিয়েশনের সভাপতি দিদারুল আলম (৫২)। সন্দীপন দাশ মারা যান ১৬ আগস্ট। আর তার তিনদিন পর মারা যান দিদারুল আলম। দুজনের মৃত্যু হয়েছে করোনা পরবর্তী জটিলতার কারণে। অথচ চট্টগ্রামে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা প্রতিদিনই কমছে। কিন্তু উল্টো পথে হাঁটছে মৃত্যুর সংখ্যা। মৃত্যু না কমার বিষয়ে চট্টগ্রামের চিকিৎসকরা বলছেন, আগে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের করোনার পরে শারীরিক নানান জটিলতার কারণে মৃত্যু বেশি। যারা মৃত্যুবরণ করছেন তারা দুই থেকে তিন সপ্তাহ কিংবা চার সপ্তাহ আগে থেকেই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গতকাল রবিবার করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৯৮, এর আগের দিন ২১ আগস্ট ৩৩২, ২০ আগস্ট ৩০১, ১৯ আগস্ট ৩৪১, ১৮ আগস্ট ৩৩৮, ১৭ আগস্ট ৪৩৮ জন করোনা শনাক্ত হয়। গতকাল শনাক্তের হার ১৫ শতাংশ। অথচ জুলাই মাস ও আগস্টের প্রথম এক সপ্তাহে সংক্রমণ হার ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছিল। প্রায় দেড় মাস পর শনাক্তের সংখ্যা নিচে নামছে। কিন্তু করোনায় মৃত্যুর হার কমছে না।

গত ২৭ জুলাই চট্টগ্রামে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরদিন ২৮ জুলাই এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭ জনে। তখন সংক্রমণের হারও ছিল অনেক বেশি। তবে জুলাই মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে করোনা শনাক্ত ও মৃত্যু কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যায় ৮ জন। ২১ আগস্ট ৪ জন। ২০ আগস্ট ১০ জন। ১৯ আগস্ট ৬ জন। ১৮ আগস্ট ১১ জন। ১৭ আগস্ট ১১ জন। তবে শনাক্তের তুলনায় মৃত্যুর হার

আগস্ট মাসে বেশি।

চিকিৎসকরা বলছেন, যে কোনো ভাইরাসজনিত রোগের পর শারীরিকভাবে প্রচÐ দুর্বল লাগা, মাথাঘোরা, মাথাব্যথা হতে পারে। একে বলে পোস্টভাইরাল এসথেনিয়া। করোনা-পরবর্তী সময়ে এক-তৃতীয়াংশ রোগীরা এ সমস্যায় ভোগেন। এ ছাড়া করোনা ভাইরাসের আক্রমণের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় ফুসফুসের। করোনা থেকে সুস্থ হলেও শ্বাসকষ্ট এবং অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। করোনা-পরবর্তী আরেকটি জটিলতা হচ্ছে শরীরের বিভিন্ন রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধা। ফলে ফুসফুস, হার্ট, ব্রেন, কিডনি, হাতের বা পায়ের রক্তনালি ইত্যাদির ক্ষতি হতে পারে। এসব কারণে করোনা-পরবর্তী মানুষের মৃত্যু বাড়ছে।

চমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রধান ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, করোনা থেকে সুস্থ হওয়া অনেক রোগীর নতুন করে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা লাগছে। এখন এমন রোগী ভর্তি হচ্ছেন বেশি। একই কথা বললেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন ডা. আবদুল রব মাসুম। তিনি বলেন, করোনা-পরবর্তী জটিলতার মধ্যে রোগীদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পেলেন নতুন করে অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়া। বিশেষে করে সেটা হয়ে থাকে বয়স্কদের ক্ষেত্রে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুযত পাল আমাদের সময়কে বলেন, করোনা ভাইরাসটি ফুসফুসসহ রোগীর হার্ট, কিডনি, লিভার, রক্ত সংবহনতন্ত্র এবং স্নায়ুতন্ত্রকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই সুস্থ হওয়ার পরও বা করোনা নেগেটিভ হওয়া বা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া মানেই সব ভোগান্তির অবসান নয়। করোনা থেকে মুক্ত হওয়ার পরও চাই বাড়তি সতর্কতা এবং নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত¡াবধায়নে থাকা।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, এখন করোনা শনাক্ত কম। কিন্তু করোনায় মৃত্যুর হার কমছে না। অনেকের করোনা থেকে সুস্থ হতে না হতেই প্রয়োজন হচ্ছে অক্সিজেন সার্পোট। যা করোনা-পরবর্তী জটিলতা। এখন যারা মারা যাচ্ছেন তাদের অধিকাংশের বয়স ৫০ বছরের উপরে। যাদের শরীরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসটান আগে থেকে ছিল।

করোনা থেকে সুস্থ হয়ে করোনা-পরবর্তী জটিলতা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে কী করতে হবে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, পরিমিত সুষম এবং পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, যারা আগে শারীরিক পরিশ্রম বা নিয়মিত ব্যায়াম করতেন তাদের সতর্ক হতে হবে, কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে তারপর ধীরে ধীরে শুরু করতে হবে, নিয়মিত সাত-আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে, করোনা সংক্রমণপরবর্তী ফুসফুসের জটিলতার জন্য দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্ট ও কাশি থাকতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করতে হবে।





Source link

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments