দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছাতে যাত্রীদের দুর্ভোগ, পণ্যবাহী গাড়ির লম্বা সারি

Date: 2021-11-06
news-banner

আজ শনিবার সকালে ফেরিঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুল পর্যন্ত পণ্যবাহী গাড়ির লাইন। এর মধ্যে বেশির ভাগই পণ্যবাহী ট্রাক আর কাভার্ড ভ্যান। কিছু কিছু খোলা ট্রাকে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে।

খুলনার কয়রা থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাকে বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষকে দেখা যায়। গাড়িতে থাকা আবদুর রশিদ বলেন, ‘তাঁরা ট্রাকে চড়ে আমিন বাজারে ইটভাটায় কাজে যাচ্ছেন। এ গাড়িতে মোট ১৭টি পরিবার আছে। পরিবহন বন্ধ থাকায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাঁরা ট্রাকে রওনা দিয়েছেন। সন্ধ্যার দিকে গোয়ালন্দ মোড়ে পৌঁছান। আট ঘণ্টা পর রাত তিনটার দিকে ফেরিঘাট সড়কে এসেছেন। এ সড়কেও তাঁরা প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে আটকে আছেন।

গাড়িতে থাকা কুলসুম বেগম ও রীমা আক্তার নামের দুই নারী বলেন, ‘সবাই ইটভাটার শ্রমিক। স্বামী-সন্তান নিয়ে একসঙ্গে রওনা করেছেন। সারা রাত এভাবে খোলা আকাশের নিচে কেটেছে। আশপাশে কোনো শৌচাগার না থাকায় নারী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

ধর্মঘট চললেও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল অব্যাহত থাকায় দৌলতদিয়ায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ঢাকামুখী পণ্যবাহী গাড়ির সারির সৃষ্টি হয়েছে
ধর্মঘট চললেও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল অব্যাহত থাকায় দৌলতদিয়ায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ঢাকামুখী পণ্যবাহী গাড়ির সারির সৃষ্টি হয়েছে
ছবি: প্রথম আলো

এদিকে মাগুরা থেকে আসা রীতা রানী সরকার জানান, ‘ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। এখন চাকরির প্রয়োজনে ঢাকায় ফিরতে হবে। বাস বন্ধ থাকায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সপরিবার রওনা দিয়েছেন। এ জন্য তাঁদের দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ফরিদপুরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় থেকে আসা মাহিন্দ্রাচালক আবদুর রব জানান, ‘ধর্মঘটে বাসের পাশাপাশি মাহিন্দ্রা চলাচলও বন্ধ। এ জন্য গতকাল তিনি কোনো ট্রিপ মারতে পারেননি। তাই আজ লুকিয়ে ১০ জন যাত্রী নিয়ে এসেছেন। স্বাভাবিক সময়ে ৫০ টাকা ভাড়া থাকলেও লুকিয়ে গাড়ি বের করতে হয়েছে বলে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছেন তিনি।

দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাট পন্টুনে দায়িত্বরত টার্মিনাল তত্ত্বাবধায়ক জুকাইর রতন জানান, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭টি ফেরি চলছে। এরপরও পণ্যবাহী গাড়ির চাপ রয়েছে। ধর্মঘটে দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ থাকায় সব ধরনের পণ্যবাহী গাড়ি গন্তব্যে ছুটছে। তবে আগের থেকে অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

Leave Your Comments