কাউন্সিলরদের ভোট গ্রহণে বাদানুবাদ, পরে সম্মেলনই পণ্ড

Date: 2021-11-07
news-banner


স্থানীয় নেতা-কর্মী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে সম্মেলন উপলক্ষে আলোচনা সভা শেষে বেলা দেড়টার দিকে শুরু কাউন্সিল। গোপন ব্যালেটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে বিএনপির পৌর শাখা সম্মেলন ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দেয়। সম্মেলনের আগেই একক প্রার্থী হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি পদে নির্বাচিত হন মিজানুর রহমান। বেলা আড়াইটার দিকে ৪ সম্পাদকীয় পদের বিপরীতে ৮ প্রার্থীর ভোট গ্রহণ যখন প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়, ঠিক তখনই দুটি পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে চেয়ার–ছোড়াছুড়ি শুরু হলে গোপন ব্যালেটে ভোট দিতে আসা দুজন কাউন্সিলর চেয়ারের আঘাত পান।

এই নিয়ে দুই পক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সম্মেলনে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত বিএনপির নেতাদের পরামর্শে স্থগিত করা হয়। বিকেল চারটার দিকে আবার ব্যালেটে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও শেষে দুই পক্ষের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে স্থগিত করা হয়। এরপর দুই পক্ষ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন কাউন্সিল বলেন, কাউন্সিল চলাকালে নির্বাচন কমিশনের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষ এজেন্ট, কাউন্সিলরদের আইডি কার্ড না থাকার সুযোগে একটি পক্ষ নামে–বেনামে ভোট প্রদান শুরু করলে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। একপর্যায়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাই এবং দুই পক্ষের নেতা–কর্মীরা চেয়ার–ছোড়াছুড়ি করেন।

তবে ব্যালেট ছিনতাই হওয়ার মতো কোনো কিছু ঘটেনি বলে দাবি করেন কাউন্সিলে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু নাসের। তিনি বলেন, গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহণ করার সময় ভোটারদের মধ্যে ঠেলাঠেলির ঘটনায় সম্মেলনের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সে জন্য কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করেছেন।

এর আগে সকালে পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করেন সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার। উদ্বোধন শেষে প্রথম অধিবেশনে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল হুদার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন। সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সামিয়া চৌধুরী, ফয়সল আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর জেলা বিএনপির ২৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এরপর ১৩টি উপজেলা ও ৫টি পৌর শাখা পুনর্গঠনে ১৮টি সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি। এরপর করোনা পরিস্থিতির কারণে দল পুনর্গঠন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। প্রায় দেড় বছর বিরতি দিয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের একটি সমন্বয় সভায় চলতি বছরের মধ্যে জেলা সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের তাগাদা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে পৌরসভা কমিটির সম্মেলন করে কমিটি পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করা হয়।

বিয়ানীবাজার পৌর বিএনপির সম্মেলন পণ্ডের বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা গোপন ব্যালেটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে চান। বিয়ানীবাজার পৌর কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কিছুটা প্রতিকূল পরিস্থিতি হওয়ায় কাউন্সিল, তথা ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত কাউন্সিলের তারিখ পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে।

Leave Your Comments