আরিয়ানের মামলা থেকে সরে গেলেন, না সরিয়ে দেওয়া হলো বানখেড়েকে?

Date: 2021-11-06
news-banner

যেখানে সমীর বানখেড়ের বাবার নাম দাউদ বানখেড়ে হিসেবে দাবি করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে আবার জাল সনদ জমা দিয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগও আনা হয়। অনেকে বলছেন, একের পর এক বিতর্কের কারণেই অপসারিত করা হলো সমীর বানখেড়েকে।

আরিয়ান
আরিয়ান
কোলাজ

যদিও ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সমীর বানখেড়ে দাবি করেছেন, তাঁকে সরানো হয়নি। তিনি এখনো মুম্বাইয়ের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে কর্মরত। তাঁকে অন্য কোথাও সরানো হয়নি। তবে সমীর এ–ও বলেছেন, তিনিই নাকি আরিয়ানের মামলা থেকে সরে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি চান, আরিয়ানের মামলা নিয়ে নবাব মালিক যে অভিযোগ তুলেছেন সেসব তদন্ত করুক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর সে কারণেই দিল্লি থেকে স্পেশাল টিম মুম্বাইতে তদন্ত করতে যাচ্ছে। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সমীর।

তাঁর দাবি, আরিয়ান খানকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই নানাভাবে তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মুম্বাই পুলিশের কমিশনারকে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। পরে বম্বে হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হন বানখেড়ে।

সমীর বানখেড়ে
সমীর বানখেড়ে

এনসিবির আরেক কর্মকর্তা অশোক জৈন এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, এটি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিল্লি থেকে এনসিবির বিশেষ দল মুম্বাই যাচ্ছে। এবার থেকে তারাই আরিয়ানসহ মোট ছয়টি মামলার তদন্ত করবে।

গত মাসখানেক আগে মুম্বাইয়ের একটি প্রমোদতরি থেকে আটক করা হয় শাহরুখপুত্রকে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। ওই প্রমোদতরিতে অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন সমীর বানখেড়ে। শাহরুখপুত্রকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই রাতারাতি ‘হিরো’ বনে যান এই এনসিবি কর্মকর্তা। আর তখন থেকেই বিতর্কের শুরু। বানখেড়ের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলেন মন্ত্রী নবাব মালিক। আর তাতে নিজের বিভাগেই তদন্তের মুখে পড়তে হয় বানখেড়েকে। এমন বিতর্কের মধ্যেই হাইভোল্টেজ ড্রাগ মামলা থেকে সরলেন সমীর।

এত দিন বলিউডের একটি অংশের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ছিলেন সমীর বানখেড়ে। অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তে মাদকযোগ থেকে শুরু করে ২০১১ সালে মুম্বাই বিমানবন্দরে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ট্রফি আটকে দেওয়া—সবখানে ‘নায়ক’ এই সমীর বানখেড়ে। ২০১৩ সালে বিদেশি মুদ্রাসহ মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেন মিকা সিংকে। রিয়া চক্রবর্তীর মাদক কেলেঙ্কারির তদন্তের দায়িত্বও ছিল তাঁর কাঁধে। ২০০৮ ব্যাচের আইএএস কর্মকর্তা সমীর বানখেড়ে। তাঁর সঙ্গে অবশ্য বলিউডের যোগাযোগও রয়েছে। জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর এই কর্মকর্তা বলিউড অভিনেত্রী ক্রান্তি রেদকরের স্বামী।

Leave Your Comments